Thursday, June 08, 2017

খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর এলাকায় বিজিবি-পুলিশ কর্তৃক ঘরবাড়ি তল্লাশি ও জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।। গতকাল বুধবার (৭ জুন) সকালে খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভর বাজারে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিজিবি ও পুলিশ হামলা চালায়। এর পরবর্তীতে বিজিবি-পুলিশ সদস্যরা স্বনির্ভর বাজারের পার্শ্ববর্তী উত্তর খবংপয্যা গ্রামে ঢুকে ঘরবাড়িতে তল্লাশি ও বিভিন্ন জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উত্তর খবংপয্যা গ্রামের বাসিন্দা পৌরসভার সচিব অমর বিকাশ চাকমার স্ত্রী শাহানা চাকমা অভিযোগ করে বলেন, গতকাল বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ৪০ জনের মত আমার বাড়িতে হানা দেয় এবং আমার ছেলে অরিন চাকমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে আমি বিজিবি কমান্ডারের সাথে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ি। বিজিবি কমান্ডার আমার ছেলের মোবাইলটা কেড়ে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে আমাদের ২টি বেড রুমে তল্লাশি চালিয়ে জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়। তারা আমাদের বাড়ি থেকে নেপোলিয়ন চাকমার পুত্র রুমেন চাকমাকে ধরে নিয়ে যায় এবং নিয়ে যাওয়ার সময় বেদম মারধর করে।

একই গ্রামের বাসিন্দা বিনতা চাকমা অভিযোগ করে বলেন, আমি আমার স্বামীকে স্বনির্ভর বাজারে খোঁজ নিতে এবং সেই সাথে কৃষি ব্যাংকে টাকা জমা দিতে বাড়ি থেকে বের হই। বাড়ি থেকে কিছুদূর যেতে না যেতে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা আমার দিকে চিকার করতে করতে ছুটে আসে এবং আমাকে ধর ধর বলে চিকার করতে থাকে। আমি উপায় না দেখে শান্তি মনি চাকমার বাড়িতে ঢুকে পড়ি। তারপর টিউবওয়েলের কাছে আমার ব্যাগটা রাখি। বিজিবি সদস্যরা সেই বাড়িতে গেলে আমার ব্যাগটা তারা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আমার ব্যাগে নগদ দেড় হাজার, মোবাইল ১টি, মোটর সাইকেল ও ঘরের চাবি, DBSএর পাশ বই এবং আমার স্বামীর ভোটার আইডি কার্ড ছিল।
উক্ত গ্রামের শান্তি মনি চাকমা’র স্ত্রী বলেন, বিজিবি সদস্যরা আমাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। তারা আমাদের বাড়ি থেকে ১৪ জন নারীকে ধরে নিয়ে যায়। আমরা চেষ্টা করেছি’ তাদেরকে রক্ষা করার, কিন্তু পারিনি।
এছাড়া বিজিবি-পুলিশ সদস্যরা উক্ত গ্রামের ডলফিন চাকমা এবং বাট্যা চাকমার বাড়ির গেট ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিজিবি-পুলিশ সদস্যরা স্বনির্ভর বাজারেও বেশ কয়েকটি দোকানে ভাংচুর ও তল্লাশি চালিয়েছে এবং দোকানদারগণকে লাঠিসোটা সহযোগে হুমকি-ধামকি দিয়ে দোকান বন্ধ করতে বাধ্য করেছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।
—————–


No comments: