Saturday, June 10, 2017

লংগুদু হামলার প্রতিবাদে ১৬ জুন রাঙামাটির রাজপথে দাঁড়াতে রাণী ইয়ান ইয়ান-এর আহ্বান

রাঙামাটি প্রতিনিধি।।  লংগুদুতে পাহাড়ি গ্রামে সেটলার হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে আগামী ১৬ জুন ২০১৭, শুক্রবার রাঙামাটির রাজপথে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাণী ইয়ান ইয়ান।

গত ৮ জুন তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই আহ্বান জানান।


তিনি রাজপথে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, কর্মজীবী, শিক্ষার্থী ও রাঙ্গামাটির বাইরে থেকে যারা আমার সাথে, আমাদের সাথে রাঙ্গামাটির রাজপথে দাঁড়াতে চেয়েছেন এবং চান, তাদের সুবিধার্থে ১৬ই জুন শুক্রবার দিনটি ঠিক করা হল।

যারা রাঙ্গামাটির বাইরে থেকে আসবেন, তারা একদিন হাতে রেখে আসার কথা বিবেচনা করবেন।

আমাদের সমাগমে যে কোন প্রকারের সংগঠনের/দলের ব্যানার নিষিদ্ধ। আপনি নিজেকে সাধারণ জনগণের একজন হিসেবে চিহ্নিত করলে ব্যানার লাগে না। তবে কয়েকজন মিলে লম্বা কাপড়ে যদি কিছু লিখে আনতে চান, পারবেন।

প্ল্যাকার্ড বা কাগজে যা বলতে চান, যা লিখতে চান, লিখে আনুন।
কোন লম্বা বক্তৃতা হবে না।
দ্রোহের/চেতনার কবিতা বা গান হতে পারে। দুঃখের/হতাশার গান চলবে না।
যারা গান গাইতে জানেন, চান; আমার সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।
নিজ নিজ দায়িত্বে আসবেন। যে কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা/দুর্ঘটনার আড়ালে সাজানো ঘটনার জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকবেন।

সংহতি।


বিঃ দ্রঃ যদি আপনারা কেউ ভিন্নভাবে প্রতিবাদ/সমাবেশ/মিছিল করতে চান, উদ্যোগ নিন। আপনাদের মতের সাথে মিললে আপনাদের উদ্যোগেও আমি সামিল হব।
————-

রামগড়ে এক ইউপিডিএফ সদস্য আটক

রামগড় : খাগড়াছড়ির রামগড়ে বাত্যা চাকমা ওরফে বিপন (২২) নামে এক ইউপিডিএফ সদস্য আটক হয়েছেন। তিনি দক্ষিণ গুজা পাড়ার কালা মোহন চাকমার ছেলে।



জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (৯ জুন) বিকাল ৪টার দিকে তিনি মোটর সাইকেল যোগে ফটিকছড়ির দাঁতমারা বাজার থেকে ফেরার পথে গোঁইয়ে পাড়া স্কুলের সামনে পৌঁছলে বালুখালী থেকে সাবেক মেম্বার আবু বক্করের নেতৃত্বে কিছু সেটলার তার মোটর সাইকেল গতিরোধ করলে তিনি তাদের কবল থেকে বাঁচতে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে সেটলাররা ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে এবং বেদম মারধর করে স্থানীয় বিজিবি ও বাটনাতলী ক্যাম্পের সেনাদের খবর দেয় তারা। পরে তাকে বিজিবি’র হাতে তুলে দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে রামগড় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
---------------

প্রথম আলো সম্পাদকীয়: প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা চলবে না, খাগড়াছড়িতে পুলিশ-বিজিবির ধরপাকড


পাহাড়ি নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহরণের ২১তম বার্ষিকীতেও রাষ্ট্রযন্ত্র তাঁর বিষয়ে কোনো কৈফিয়ত দিতে যথারীতি নীরবতা পালন করেছে। আর যারা স্মরণ করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ওপর চড়াও হয়েছে। আমরা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের মিছিলে এবং পরে গ্রামে হামলা ও ধরপাকড়ের নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে প্রতিবাদের নামে যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ যানবাহনের ক্ষতিসাধন করেছে, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দাবি করি।

Friday, June 09, 2017

গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের পানছড়ি উপজেলা শাখার ৬ষ্ঠ সম্মেলন সম্পন্ন

পানছড়ি : ‘দালালী, লেজুরবৃত্তি, সুবিধাবাদীতার পথে নয়, জনগনের ওপর আস্থা বিশ্বাস রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম এগিয়ে নিন ও জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে চুড়ান্ত লক্ষ্য পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লড়াইয়ে বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে ছাত্র-যুব-নারী তথা জনগণের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম পানছড়ি উপজেলা শাখার ৬ষ্ঠ সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে।


আজ শুক্রবার (৯ জুন ২০১৭) সকাল ১০টায় পানছড়ি উপজেলার পুজগাং-এ উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশনে মাধ্যমে ৬ষ্ঠ সম্মেলনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদের উদ্দেশ্যে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন সদস্য মনোতোষ চাকমা। এরপর শহীদের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের পানছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি রুপায়ন চাকমার সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিন্টু বিকাশ চাকমা’র সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জিকো ত্রিপুরা, ইউপিডিএফ এর কেন্দ্রীয় সদস্য নতুন কুমার চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ পানছড়ি উপজেলার শাখার সাধারণ সম্পাদক সুকিরণ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেনের খাগড়াছড়ি জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক অবনিকা চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা সদস্য বাবু মারমা। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চেঙ্গী ইউপি চেয়ারম্যান কাঁলাচাদ চাকমা, ১নং লোগাং ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যুত্তর চাকমা, চেঙ্গী ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র চাকমা, লোগাং ইউপি’র সাবেক চেয়রাম্যান সমর বিকাশ চাকমা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুব ফোরামের পানছড়ি উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শান্তি ত্রিপুরা।

খাগড়াছড়িতে জামিনে মুক্তি পাওয়া হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কর্মী-সমর্থকদের সংবর্ধনা

খাগড়াছড়ি : গত ৭ জুন (বুধবার) খাগড়াছড়ি সদরের স্বনির্ভরে শান্তিপুর্ণ মিছিলে বিজিবি-পুলিশের হামলায় আটক ও পরে কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কর্মী-সমর্থকদের ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। জামিনে মুক্তি পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন- ১.এন্টি চাকমা, ২.জনতা চাকমা ৩.বিশাখা চাকমা ৪.রুপা চাকমা ৫. সোনাবী চাকমা। এর মধ্যে বিশাখা চাকমাকে তার আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ায় তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জুন) বিকালে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর স্বনির্ভর বাজারে ইউপিডিএফ কার্যালয়ের সম্মুখে চৌরাস্তায় পিসিপি ও এইচডব্লিউএফ-এর পক্ষ থেকে তাদেরকে ফুলের মালা পরিয়ে তাক্ষণিকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।  এ সময় পিসিপি ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের প্রায় শতাধিক নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক মিছিল-সমাবেশে সেনা হামলা বাড়ছে


বিশেষ প্রতিনিধি ।। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, কর্মসূচি নিয়ে পাহাড়ি জনগণের গণতান্ত্রিক মিছিল-মিটিঙ-সমাবেশে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ, বাধা দান ও হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। সাম্প্রতিককালে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে পাহাড়িদের মিছিল-সমাবেশের উপর সংঘটিত বেশ কিছু ঘটনায় এমনই চিত্র পাওয়া গেছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সেনাবাহিনীর এমন হস্তক্ষেপ পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে জটিল করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক সচেতন মহল।

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সিভিল প্রশাসনই গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অর্থা মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ ইত্যাদি দেখভাল করে থাকে। দেশের সমতল অঞ্চলে এমনটাই দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের বেলায় তার উল্টোটাই ঘটে থাকে। এখানে সেনাবাহিনীই যেন সব। তাদের কর্তৃত্বই এখানকার সিভিল প্রশাসনকে এক প্রকার অচল করে রেখেছে। ফলে পুলিশের বদলে সেনাবাহিনীই মিছিল-মিটিঙ, সভা-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে থাকে। তারা মিছিল-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের নামে হামলা, ধরপাকড় চালায়। এটা করতে গিয়ে সেনাবাহিনীকেও জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়াসহ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আর এতেই সৃষ্টি হয় নানা সমস্যার।

নব্বই সালে দেশটি স্বৈরাচার মুক্ত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনো অপারেশন উত্তরণের নামে সেনাশাসন বলব রাখা হয়েছে। পার্বত্য চুক্তির পরও সেনা শাসন বাতিল করা হয়নি। উপরন্তু ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক এই অঞ্চলের উপর জারি করা হয় দমনমূলক ১১ নির্দেশনা। এই নির্দেশনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা শাসনকে এক প্রকার বৈধতা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সেনাবাহিনী এই অঞ্চলের জনগণের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। বেড়ে যায় গণতান্ত্রিক মিছিল সমাবেশের উপর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ও হামলা। এছাড়া অন্যায় ধরপাকড়, রাত-বিরাতে ঘরবাড়িতে তল্লাশি-হয়রানি এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

Thursday, June 08, 2017

খাগড়াছড়িতে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ৫ কর্মী-সমর্থক জামিনে মুক্ত, ৩ জনকে কারাগারে প্রেরণ

খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর বাজারে শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিজিবি-পুলিশের হামলার সময় আটক হওয়া হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ৮ কর্মী-সমর্থক থেকে ৫ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বাকী ৩ জনের জামিন না মঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার(৮ জুন) দুপুরে খাগড়াছড়ি সদর থানা থেকে আটক ৮ জনকে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রোকেয়া বেগমের আদালতে নেওয়া হয়। আদালত ৫ জনের জামিন মঞ্জুর করে ৩ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।